ইতিহাস হলো অতীতের আয়না, বর্তমানের শিক্ষা, আর ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণের
উপকরণ। এই জন্যে শত্রুরা ইতিহাসের গতিপথকে বদলে ফেলে। নিজেদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে
নেয় পুরো ন্যারেটিভকে। একসময় মানুষ সত্যি ঘটনাটা ভুলে যায়। আবছা কিছু ধারণা নিয়ে
নিজের শেকড়কে বিচার করতে শুরু করে। ফলে যা ছিল গৌরবের কারণ, একসময় সেটাই কলঙ্ক
মনে হতে থাকে তার কাছে। সে জাতে ওঠার জন্যে নিজের শেকড়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
ওদিকে শত্রু তখন নিজের সফলতা দেখে পৈশাচিক আনন্দে মেতে ওঠে।
‘ফরায়েজী আন্দোলন’। উনিশ শতকের বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্দোলন।
পূর্ববঙ্গে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল এটি। আধ্যাত্মিক থেকে সামাজিক, অর্থনৈতিক
থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক থেকে পারিবারিক—সকল পরিসরে বাংলার মুসলিমদের
চিন্তাধারাকে এই আন্দোলন ‘সংস্কার’ করে। আমজনতার মাঝে জাগিয়ে তোলে
আত্মমর্যাদাবোধ। ইংরেজদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিটিশ-রাজত্বের ভেতর গড়ে তোলে
এক স্বতন্ত্র ‘ইমারত’। বালাকোট থেকে নীল-আন্দোলন, ৫৭-এর মহাবিদ্রোহ থেকে ৪৭-এর
আজাদি—সকল ক্ষেত্রে এটি পালন করে সরব ভূমিকা।
কিন্তু আমাদের এই গৌরবময় ইতিহাসও হয়েছে বিকৃতির শিকার। ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এর
আসল গতি-প্রকৃতি। বিশিষ্ট গবেষক ড. আহসানউল্লাহ এই বইয়ে ওই বিকৃতিগুলোর
অপনোদন করেছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে তুলে ধরেছেন ফরায়েজী আন্দোলনের নির্মোহ
ইতিহাসকে। আশা করছি, বইটি আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।
Reviews
There are no reviews yet.